গ্রামবাংলার মজার হাসির গল্প। উল্টাপাড়ার চা-কাণ্ড সিরিজের পার্ট – ৩ পড়ুন। চা খেতে এসে চেয়ারম্যানের লাইভ স্পিচ – একেবারে খাঁটি কমেডি।
☕ চা খেতে এসে চেয়ারম্যানের লাইভ স্পিচ : উল্টাপাড়ার চা-কাণ্ড (পার্ট – ৩)
চা খেতে এসে যদি বক্তৃতা শুরু হয়, চা ঠান্ডা হয় নাকি মাথা গরম?
উল্টাপাড়ার সকাল মানেই বাবলু চা মাস্টারের দোকানে ভিড়।
কেউ চা খায়, কেউ খবর শোনে, কেউ আবার শুধু চিনি কম হয়েছে বলে অভিযোগ করে।
সেই দিন বাবলু কেটলিতে চা ঢালছে, এমন সময় দেখা গেল—
চেয়ারম্যান আসছেন।
হাঁটার ভঙ্গি এমন, যেন আজ গ্রামে কিছু একটা “ঘটবেই”।
চেয়ারম্যান চা হাতে নিয়ে প্রথমে চুমুক দিলেন।
তারপর হঠাৎ গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন—
— “গ্রামবাসীগণ!”
সবাই চমকে উঠল।
একজন ফিসফিস করে বলল,
— “উনি কি চা খেতে এসেছেন, না ভোট চাইতে?”
🎤 চা-স্টলেই জনসভা
চেয়ারম্যান দাঁড়িয়ে পড়লেন।
মাইক নেই, মঞ্চ নেই—কিন্তু বক্তৃতার আত্মবিশ্বাস ফুল অন।
— “এই গ্রামে উন্নয়ন দরকার!”
— “এই গ্রামে শৃঙ্খলা দরকার!”
— “আর এই চায়ে… একটু আদা বেশি দরকার!”
বাবলু মাথা নেড়ে বলল,
— “ঠিক বলেছেন স্যার, পরের কাপে দেব।”
কিন্তু চেয়ারম্যান থামার নামই নেই।
এক কাপ চা শেষ, আরেক কাপ এল—
বক্তৃতা তখনো চলছে।
😵 শ্রোতাদের অবস্থা
১০ মিনিট পর—
- একজন লোক দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুমোচ্ছে
- একজন চা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ায় ফুঁ দিচ্ছে
- আরেকজন হিসাব করছে, আজ দোকানে এসেই ভুল করেছে
একজন সাহস করে বলল,
— “চেয়ারম্যানবাবু, চা টা তো ঠান্ডা হয়ে গেল।”
চেয়ারম্যান গম্ভীরভাবে উত্তর দিলেন,
— “উন্নয়নের আগুনে ঠান্ডা-গরম বলে কিছু নেই!”
☕ বাবলুর মাস্টারস্ট্রোক
বাবলু পরিস্থিতি বুঝে গেল।
সে নতুন কাপে চা ঢেলে সামনে রেখে বলল—
— “স্যার, এটা স্পিচ স্পেশাল চা।
যতক্ষণ গরম থাকবে, ততক্ষণ বক্তৃতা।”
চেয়ারম্যান খুশি হয়ে বললেন,
— “ভালো আইডিয়া!”
তিনি চা ধরতেই বাবলু ইচ্ছা করে কাপে ঢাকনা লাগিয়ে দিল।
চেয়ারম্যান চা খেতে পারছেন না, বক্তৃতাও থামাতে বাধ্য!
😂 শেষ মোচড়
কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর চেয়ারম্যান হেসে ফেললেন।
বললেন—
— “ঠিক আছে, আজকের মতো বক্তৃতা এখানেই শেষ।”
গ্রামবাসী হাঁফ ছেড়ে বাঁচল।
চেয়ারম্যান যাওয়ার আগে ঘোষণা করলেন—
“আজ থেকে উল্টাপাড়ায় চা-স্টলে বক্তৃতা নিষিদ্ধ!”
আর বাবলু দোকানে নতুন সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিল—
☕ “চা পাওয়া যায়, বক্তৃতা নয়।”


Leave a Reply