গ্রামবাংলার মজার হাসির গল্প। উল্টাপাড়ার চা-কাণ্ড সিরিজের পার্ট – ৪ পড়ুন। বাবলু চা মাস্টার – রিলস স্টার – একেবারে খাঁটি কমেডি।
☕ বাবলু চা মাস্টার – রিলস স্টার : উল্টাপাড়ার চা-কাণ্ড (পার্ট – ৪)
এক কাপ চা, দুইটা ফিল্টার, আর তিন লাখ ভিউ — কিন্তু ভিউ কি ভাতের সাথে খাওয়া যায়?
উল্টাপাড়ায় সেদিন সকালটা একটু আলাদা।
বাবলু চা মাস্টার কেটলিতে চা বসিয়েছে, এমন সময় গ্রামের টুনু ছুটে এল হাতে মোবাইল নিয়ে।
— “বাবলুদা! দাঁড়ান দাঁড়ান! আজ আপনাকে রিল বানাবো!”
বাবলু ভ্রু কুঁচকে বলল,
— “রিল মানে? মাছ ধরার জাল?”
টুনু হেসে বলল,
— “না দাদা, এটা এমন জিনিস—আপনি চা বানাবেন, আর মানুষ দেখবে।”
বাবলু ভাবল, “চা যদি দেখেই খাওয়া যায়, তাহলে বানানোই বা কেন?”
তবু সে রাজি হল।
📱 ক্যামেরা অন, কাণ্ড শুরু
টুনু বলল,
— “দাদা, একটু স্টাইল মারুন।”
বাবলু কেটলি তুলেই বলল,
— “স্টাইল মানে? চিনি কম দেবো?”
— “না না! এভাবে ঢালুন!”
টুনু নিজে হাত নেড়ে দেখাল।
বাবলু চা ঢালল, কেটলি থেকে ধোঁয়া উঠল—
ঠিক তখনই পাশের মাতব্বর হঠাৎ বলে উঠল,
— “এই ধোঁয়া কি স্পেশাল?”
ভিডিওতে সেই লাইনটা পড়ে গেল।
😂 রিল ভাইরাল
দুপুরের মধ্যেই গ্রামে খবর ছড়িয়ে পড়ল—
“বাবলু ভাইরাল হয়েছে!”
লোকজন এসে জিজ্ঞেস করছে,
— “বাবলু, ভাইরাল মানে কি জ্বর?”
— “হাসপাতালে দেখিয়েছিস?”
বাবলু চিন্তায় পড়ে গেল।
সে টুনুকে ডেকে বলল,
— “এই ভাইরালটা কি ভালো না খারাপ?”
টুনু বলল,
— “খুব ভালো! তিন লাখ ভিউ!”
বাবলু অবাক হয়ে বলল,
— “ভিউ দিয়ে কি চা কেনা যায়?”
🤳 নকল করার হিড়িক
পরদিন বাবলুর দোকানে ভিড় দ্বিগুণ।
কেউ চা খাচ্ছে না, সবাই ভিডিও বানাচ্ছে।
একজন বলছে,
— “দাদা, চা ঢালার সময় একটু স্লো মোশন করবেন।”
আরেকজন,
— “হাসিটা আরেকটু বড় করে দিন।”
বাবলু হাঁফিয়ে উঠল,
— “চা বানাবো, না সিনেমা করবো?”
😵 চেয়ারম্যানের আপত্তি
ঠিক তখনই হাজির হলেন চেয়ারম্যান।
তিনি চারপাশ দেখে গম্ভীর গলায় বললেন—
— “এখানে কী হচ্ছে?”
টুনু গর্ব করে বলল,
— “স্যার, উল্টাপাড়া এখন ডিজিটাল গ্রাম!”
চেয়ারম্যান এক চুমুক চা খেয়ে বললেন,
— “চা ঠিক আছে… কিন্তু সবাই মোবাইল কেন?”
বাবলু সাহস করে বলল,
— “স্যার, আমি এখন রিলস স্টার।”
চেয়ারম্যান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
— “ঠিক আছে, কিন্তু বক্তৃতা আমি দেবো।”
😂 শেষ মোচড়
পরদিন বাবলু দোকানে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিল—
☕ “চা বানানো লাইভ।
রিল বানাতে হলে লাইনে দাঁড়ান।”
আর বাবলু নিজে মনে মনে ভাবল—
“ভিউ থাকুক, কিন্তু চা যেন ঠান্ডা না হয়।”

Leave a Reply