উল্টাপাড়ার চা-কাণ্ড (পার্ট – ৬): উধার চা আর হিসাবের ভূত


উল্টাপাড়ার চা-কাণ্ড (পার্ট – ৬): উধার চা আর হিসাবের ভূত

গ্রামবাংলার মজার হাসির গল্প। উল্টাপাড়ার চা-কাণ্ড সিরিজের পার্ট – ৬ পড়ুন। উধার চা আর হিসাবের ভূত – একেবারে খাঁটি কমেডি।

উধার চা আর হিসাবের ভূত : উল্টাপাড়ার চা-কাণ্ড (পার্ট – ৬)

চা উধার নিলে নাম ওঠে খাতায়, কিন্তু টাকা ওঠে কবে?

উল্টাপাড়ায় চা খাওয়া যত সহজ, টাকা দেওয়া তত কঠিন।
বাবলু চা মাস্টারের দোকানে একটাই ভয়—
উধার খাতা।

সেই খাতাটা এত মোটা হয়ে গেছে যে বাবলু মাঝে মাঝে ভাবে,
“এটা খাতা না, গ্রামের ইতিহাস!”

📒 উধারের রাজত্ব

একজন এসে বলে—
— “বাবলু, আজ উধার রাখ।”

আরেকজন বলে—
— “কাল পাকা টাকা দেবো।”

কেউ আবার বলে—
— “চা তো খেলাম, এখন কথা দিচ্ছি।”

বাবলু শুধু খাতায় লিখে যায়।
লিখতে লিখতে এমন অবস্থা—
নিজেই বুঝতে পারে না, কে টাকা দেবে আর কে শুধু গল্প।

😨 হিসাবের ভূত

এক রাতে বাবলু খাতা খুলে হিসাব করতে বসেছে।
হঠাৎ তার মনে হল—
খাতার পাতাগুলো যেন নিজে নিজেই উল্টে যাচ্ছে!

একটা নাম থেকে আওয়াজ আসছে—
— “আমার তিন কাপ বাকি…”
আরেকটা বলছে—
— “আমার পাঁচ কাপ, সুদসহ!”

বাবলু ভয়ে চেঁচিয়ে উঠল,
— “আরে বাবা! তোরা সবাই একসাথে কথা বলিস কেন?”

পাশের টুনু বলল,
— “দাদা, এটা ভূত না… এটা উধার!”

🧾 চেয়ারম্যানের সমাধান

পরদিন বাবলু দৌড়ে গেল চেয়ারম্যানের কাছে।
বলল,
— “স্যার, আমার খাতা রাতে কথা বলে!”

চেয়ারম্যান গম্ভীরভাবে বললেন,
— “সমস্যা গুরুতর।”

তিনি ঘোষণা করলেন—

“আজ থেকে উল্টাপাড়ায়
উধার চা খেতে হলে সই দিতে হবে!”

😂 নতুন নিয়মের কাণ্ড

পরদিন দোকানে বোর্ড লাগল—

“উধার চা = সই + সাক্ষী”

একজন এসে বলল,
— “বাবলু, কলম নেই?”

আরেকজন বলল,
— “সাক্ষী কে হবে?”

সবচেয়ে মজার কথা বলল এক মাতব্বর—
— “চা ফ্রি দাও, আমি সাক্ষী হয়ে যাবো!”

🔚 শেষ মোচড়

সন্ধ্যেবেলা বাবলু হিসাব মিলিয়ে দেখল—
উধার কমেছে ঠিকই,
কিন্তু চা খাওয়ার লোকও কমে গেছে!

সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বোর্ডে আরেক লাইন যোগ করল—

“নগদে চা সস্তা,
উধারে চা স্মৃতিস্বরূপ।”

চেয়ারম্যান হাসতে হাসতে বললেন—
— “দেখলে বাবলু, ভূত তাড়াতে নিয়ম লাগে!”

🎯 উল্টাপাড়ার চা-কাণ্ড ☕

👉 সব গুলো পার্ট পড়ুন

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *