গ্রামবাংলার মজার হাসির গল্প। উল্টাপাড়ার চা-কাণ্ড সিরিজের পার্ট – ৮ পড়ুন। পুলিশ এল চা খেতে, মামলা হয়ে গেল – একেবারে খাঁটি কমেডি।
☕ পুলিশ এল চা খেতে, মামলা হয়ে গেল : উল্টাপাড়ার চা-কাণ্ড (পার্ট – ৮)
চা ফ্রি দিলে সন্দেহ, বেশি নিলে মামলা!
উল্টাপাড়ায় সেদিন দুপুরটা অস্বাভাবিকভাবে শান্ত।
বাবলু চা মাস্টার দোকান গুছাচ্ছে, এমন সময় দূর থেকে শোনা গেল—
“সাইরেন!”
সবাই থমকে গেল।
টুনু ফিসফিস করে বলল,
— “দাদা, মনে হচ্ছে আজ চা কম খাওয়া হবে।”
🚔 পুলিশের আগমন
একটা পুলিশের জিপ এসে থামল চা-স্টলের সামনে।
দুই পুলিশ নামল—গম্ভীর মুখ, বড় গোঁফ।
একজন বলল,
— “এইটাই কি বাবলু চা মাস্টারের দোকান?”
বাবলু হাত জোড় করে বলল,
— “জি স্যার… চা দেবো?”
পুলিশ বলল,
— “আগে কথা, পরে চা।”
☕ চা-তে তদন্ত
চেয়ারম্যানও হাজির হলেন।
পুলিশ বলল,
— “খবর এসেছে, এখানে নাকি অদ্ভুত চা বিক্রি হয়।”
চেয়ারম্যান গর্ব করে বললেন,
— “অদ্ভুত না, অভিনব!”
পুলিশ চা খেল।
একজন চুমুক দিয়ে বলল,
— “চা ঠিক আছে।”
আরেকজন বলল,
— “ফ্রি দিলে দাও।”
বাবলু ঘাবড়ে গেল।
ফ্রি চা মানেই তো লোকসান!
😵 ভুল বোঝাবুঝি
বাবলু সাহস করে বলল,
— “স্যার, ফ্রি দিলে তো খাতায় লিখতে হবে…”
পুলিশ খাতার দিকে তাকিয়ে বলল,
— “এই খাতায় এত নাম কেন?”
বাবলু বলল,
— “উধার…”
পুলিশ চোখ বড় করে বলল,
— “উধার মানে দেনা!
এটা তো আর্থিক লেনদেন!”
সবাই চুপ।
📜 মামলা প্রায়!
এক পুলিশ বলল,
— “এটা হিসাব ঠিক না থাকলে সমস্যা হতে পারে।”
বাবলু ঘামতে লাগল।
টুনু ফিসফিস করে বলল,
— “দাদা, আজ চা না, কেস হবে।”
ঠিক তখন চেয়ারম্যান বললেন,
— “স্যার, এটা গ্রামের রীতি।
চা না দিলে ঝগড়া হয়!”
পুলিশ দু’জন মুখ চাওয়া-চাওয়ি করল।
😂 শেষ মোচড়
এক পুলিশ হেসে বলল,
— “ঠিক আছে, আজ কোনো মামলা না।”
তারপর যোগ করল,
— “কিন্তু কাল থেকে—
ফ্রি চা বন্ধ।”
বাবলু হাঁফ ছেড়ে বাঁচল।
পুলিশ যাওয়ার সময় বোর্ডে আঙুল দেখিয়ে বলল—
☕ “আজ থেকে এখানে শুধু আইনসম্মত চা।”
বাবলু মাথা নেড়ে বলল,
— “জি স্যার… চিনি মেপে দেবো!”

Leave a Reply